Samina Chowdhury - Sure Rong
|
Wednesday, June 30, 2010
|
0 comments
যারা শুদ্ধ বাংলা গানের চর্চা করেন কিংবা শুদ্ধ বাংলা গান শোনেন তাদের সঙ্গে সামিনা চৌধুরীকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কিছুই নেই। কারণ তাদের সঙ্গে এই শিল্পীর রয়েছে আত্মার সম্পর্ক। গানপ্রেমী এমন মানুষকে খুঁজে পাওয়া দুস্কর, যিনি তার গান শোনেননি। মিষ্টি কণ্ঠের অধিকারী এই শিল্পীর জন্ম দিনাজপুরের গণেশতলায় নানা বাড়িতে। বেড়ে উঠেছেন ঢাকার এলিফেন্ট রোডে। বাবা মাহমুদুন্নবী ও মা রাশিদা চৌধুরীর আদরের সন্তান তিনি। বাবা দেশখ্যাত কণ্ঠশিল্পী বলে ছোটবেলা থেকেই তিনি হারমোনিয়াম-তবলার সঙ্গে পরিচিত। বাসায় সব সময় গানের আসর বসত।সে আসরে যোগ দিতেন শিল্পী রফিকুল আলম, তপন চৌধুরী, লাকি আখন্দ, সেলিম আশরাফসহ বিখ্যাত সব কণ্ঠশিল্পীরা। দেশের বাইরে থেকে কোন কণ্ঠশিল্পী এলে মাহমুদুন্নবীর সঙ্গে পরিচিতির সুবাদে তারা এসে উঠতো সামিনা চৌধুরীদের বাসায়। দেশ-বিদেশের বড় বড় সব কণ্ঠশিল্পীদের সাহচর্যে সামিনা চৌধুরীও গান শুরু করেন। বাকিটা না হয় স্বয়ং সামিনা চৌধুরীর কাছ থেকেই শোনা যাক।
আমার মাও খুব ভাল গান করতেন। বাবা-মা দুজনেই চাইতেন আমরা অর্থাৎ আমি ও বড় আপা (ফাহমিদা নবী) গান করি। আমাদের গান শেখানোর জন্য ওস্তাদ আমানুল্লাহ খানকে রাখা হয়েছিল। প্রতিদিন ওস্তাদজি তানপুরা ও ওস্তাদ জাকির তবলা নিয়ে আমাদের দুবোনকে গান শেখাতে বসতেন। সামিনা চৌধুরীর ভাষায় ছোটবেলা থেকেই আমরা দুবোন ছোটদের অনুষ্ঠানে নিয়মিত গান করতাম। এভাবেই ধীরে ধীরে আমার বড় হয়ে ওঠা। প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশের সঙ্গীতজগতে সামিনা চৌধুরীর বিচরণ। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি প্রায় দুই হাজার গান করে তার শিল্পী প্রতিভার প্রকাশ ঘটিয়েছেন।
অসংখ্য ছবিতে তিনি প্লেব্যাক করেছেন। তার প্রথম এলবাম ও প্লেব্যাকের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার প্রথম এলবামের নাম শৈশবের দিনগুলি, আর প্রথম প্লেব্যাক করি জন্ম থেকে জ্বলছি ছবিতে। গানটির শিরোনামও ছিল জন্ম থেকে জ্বলছি। ২৮ আগস্ট জন্ম নেয়া কন্যা রাশির এই জাতিকার পুরো নাম সামিনা চৌধুরী সুমা হলেও সঙ্গীতজগতের সবাই তাকে সামিনা চৌধুরী নামেই চেনে-জানে। কাছের আত্মীয়স্বজন সবাই তাকে সুমা নামেই ডাকে বলে তিনি জানান। বড় মেয়ে তেজী, ছোট ছেলে বিরবল ও স্বামী এজাজ খান স্বপন গানের বাইরে এ তিনজনকে নিয়েই সামিনা চৌধুরীর যত ব্যস্ততা। আপনার বাবা দেশসেরা একজন কণ্ঠশিল্পী ছিলেন। তার সন্তান আপনি। আপনার বোন ফাহমিদা নবী, ভাই পঞ্চমও গানের জগতের মানুষ। সে হিসেবে আপনার সন্তানরা কি সঙ্গীতভুবনে আসবেন এমন প্রশ্ন করলে সামিনা চৌধুরী বলেন, আমি এ ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ওদের ওপরই ছেড়ে দিয়েছি। ওদের ইচ্ছে হলে ওরা সঙ্গীতজগতে আসতে পারে। না এলেও ক্ষতি নেই। তবে হ্যাঁ, গান করতে জানতে হবে, গান হচ্ছে আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্য। গান না গাইতে পারলে কীভাবে হবে। দুই যুগ ধরে সামিনা চৌধুরী তার গানের সুরের জালে শ্রোতাদের আবদ্ধ করে রেখেছেন। শ্রোতারাও তাকে কম দেয়নি। শ্রোতারা তাকে বসিয়েছে সম্মানের আসনে। এতদূর আসার পেছনে কেমন স্ট্রাগল করেছেন এমন প্রশ্ন করলে সামিনা চৌধুরী কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলেন, স্ট্রগল কি না জানি না তবে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। নকল গানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় আমাদের দুই বোনকে বেশ ক'বছর কোন প্রকার গান করতে দেয়া হয়নি। সামিনা চৌধুরী আরটিভিতে প্রচারিত সঙ্গীত প্রতিযোগিতামূলক একটি অনুষ্ঠানে বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন। বিচারকার্য পরিচালনা করতে গিয়ে অনেক কিছুই তার চোখে ধরা পড়েছে। অনেক প্রশ্নই তার মধ্যে ঘুরপাক খেয়েছে। তার কয়েকটি তিনি আমাদেরও জানিয়েছেন, শুধু ভাল গান করতে পারলেই একজন মানুষ ভাল কণ্ঠশিল্পী হয়ে যায় না। ভাল কণ্ঠশিল্পী হতে হলে অন্যান্য গুণাবলিরও প্রয়োজন আছে। বড়দের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, জানার ইচ্ছা, আচার-ব্যবহার সব কিছুই একজন কণ্ঠশিল্পীর মধ্যে থাকতে হবে। এসব কিছুর ঘাটতি আছে বলেই অনেক ভাল ভাল কণ্ঠশিল্পী ঝরে যাচ্ছে। ভাল মানের কণ্ঠশিল্পী হওয়ার জন্য প্রতিভা এবং সুযোগ এ দুটোরও প্রয়োজন আছে বলে তিনি মনে করেন। অগ্রণী বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, হলিক্রস গার্লস কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ইডেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্স পাস করা এ সঙ্গীতশিল্পীর ইচ্ছে ছিল ডাক্তার কিংবা অভিনেত্রী হওয়ার। কিন্তু তা না হয়ে তিনি হয়েছেন সঙ্গীতশিল্পী। অবশ্য এ নিয়ে তার মনে কোন কষ্ট নেই। কারণ সামিনা চৌধুরী মনে করেন গানেই তিনি মানান সই। মাহমুদুন্নবীর মেয়ে হিসেবে তিনি সঙ্গীতশিল্পী হবেন এটাই স্বাভাবিক।
সামিনা চৌধুরীর প্রিয়শিল্পী হচ্ছেন লতা মুঙ্গেশকর ও আশা ভোঁশলে। তাদের মতো উচ্চতায় নিজেকে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন প্রতিদিন বুনে চলেছেন তিনি। একজন শিল্পীর ব্যক্তিত্বটা আলাদা ধরনের থাকতে হয়। যেনতেন জায়গায় গিয়ে তাকে গান করা মানায় না। আর তাই সামিনা চৌধুরীও যেনতেন জায়গায় গান করতে যান না। গায়ে হলুদসহ এ জাতীয় অনুষ্ঠানে গান করাটাকে তিনি এড়িয়ে চলেন। তার মতে, এসব অনুষ্ঠানে গান করলে শিল্পীর স্বকীয়তা নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে গানের বাজার ও গান সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, বর্তমানের গানের বাজার খুবই খারাপ। অডিও পাইরেসির কারণে অডিও শিল্প ধ্বংস হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এখনও অনেক ভাল গান হচ্ছে।
তবে এসব ভাল গানের প্রচার হচ্ছে না বলে খারাপ গানের ভিড়ে ভাল গান হারিয়ে যাচ্ছে। গান নেশা এবং সেই সঙ্গে পেশা হিসেবেও নিয়েছেন সামিনা চৌধুরী। পাশাপাশি তিনি ওয়ার্ল্ড মিউজিকের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমান ব্যস্ততা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাবার কালজয়ী ২০টি গান নিয়ে এ মাসের গানের সিডি প্রকাশ করব। এ নিয়ে কিছুটা ব্যস্ততার মধ্যে আছি। তাছাড়া, দুদিন পর পরই কোন না কোন কনসার্টে গান করতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে ছবিতেও প্লেব্যাক করতে হচ্ছে। এসব কিছু নিয়েই মূলত ব্যস্ততার মাঝে আছি। সামিনা চৌধুরীর স্বপ্ন বাংলা গানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। আর এর জন্য তিনি আমৃত্যু গান নিয়ে সাধনা করে যেতে চান। তিনি গানের জাদুতে শ্রোতাদের আবদ্ধ করতে চান। যাতে শ্রোতারা ভিনদেশী সংস্কৃতির কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। তার কিছু খুবই জনপ্রিয় কিছু গান নিয়ে একটি সিডি রেরিয়েছে, সুরে রঙ নামে। নিচের লিঙ্কটি থেকে সিডি সম্পর্কে জানতে পারবে। আগ্রহী শ্রোতাদের সিডিটি কেনার অনুরোধ রইলো।
Click Here for Album Sure Rong
Filed Under: Audio , Bangla , bangla mp3 , Bangla Music , samina , samina chowdhury , sure rong



0 comments
Trackback URL | Comments RSS Feed